মূল অংশে যান

মুয়াত্তা মালিক – খণ্ড ১৬

৫৮টি হাদিস · পৃষ্ঠা ২

  • ৫৭০সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدِي لِقَائِي أَحْبَبْتُ لِقَاءَهُ وَإِذَا كَرِهَ لِقَائِي كَرِهْتُ لِقَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ আমার বান্দা আমার সাক্ষাতকে ভালবাসিলে আমিও তাহার সাক্ষাতকে ভালবাসি। আর সে আমার সাক্ষাতকে অপছন্দ করিলে, আমিও তাহার সাক্ষাতকে অপছন্দ করি

  • ৫৭১সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ حَسَنَةً قَطُّ لأَهْلِهِ إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ ثُمَّ اذْرُوا نِصْفَهُ فِي الْبَرِّ وَنِصْفَهُ فِي الْبَحْرِ فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لاَ يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ ‏.‏ فَلَمَّا مَاتَ الرَّجُلُ فَعَلُوا مَا أَمَرَهُمْ بِهِ فَأَمَرَ اللَّهُ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبِّ وَأَنْتَ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ فَغَفَرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি কোন সময় নেকী করে নাই, তাহার পরিজনকে বলিলঃ সে মারা গেলে তাহাকে যেন জ্বালাইয়া ফেলে, অতঃপর উহার অর্ধেক শুকনায় ছড়াইয়া দেয়, আর অর্ধেক সাগরে ছিটাইয়া দেয়। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ তাহার জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেন তবে তাহাকে এইরূপ শাস্তি দিবেন জগদ্বাসীদের কাহাকেও সেইরূপ শাস্তি তিনি দিবেন না। সেই ব্যক্তির যখন মৃত্যু হইল, তাহার পরিজন তাহার নির্দেশানুযায়ী কাজ করিল। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা শুষ্ক ভূমিকে হুকুম করিলেন, সেই ব্যক্তির অংশসমূহকে যাহা তাহার মধ্যে ছিল একত্র করিয়া দিতে, আর সাগরকে হুকুম দিলেন, যাহা তোমার মধ্যে ছিল একত্র করিয়া দিতে। ভূমি সেই ব্যক্তির অংশকে একত্র করিয়া দিল, সাগরও উহাকে একত্র করিয়া দিল। তারপর আল্লাহ বলিলেনঃ তুমি এই কাজ কেন করিলে? সে বলিলঃ আপনার ভয়ে, হে প্ৰভু! আর আপনি অধিক জ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ অতঃপর তাহাকে ক্ষমা করিয়া দেওয়া হইল।

  • ৫৭২সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏"‏ كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ، كَمَا تُنَاتَجُ الإِبِلُ مِنْ بَهِيمَةٍ جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الَّذِي يَمُوتُ وَهُوَ صَغِيرٌ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ (বনি আদমের) প্রতিটি নবাগত সন্তান স্বভাব-এর (فطرة) উপর জন্মায়। অতঃপর তাহার মাতাপিতা তাহাকে ইহুদী বানায়, অথবা খৃস্টান বানায়, যেমন উট জন্ম নেয় সুস্থ-পূর্ণ দেহের উট হইতে। তোমরা কি উহাকে কৰ্ণ কর্তিত দেখিতে পাও? তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে শিশু শৈশবে মারা যায় সেই শিশু সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বলিলেনঃ তাহারা প্রাপ্তবয়স্ক হইলে কিরূপ কাজ করিত তাহা আল্লাহ অধিক অবগত।

  • ৫৭৩সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কিয়ামত কায়েম হইবে না যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়া চলিবে এবং বলিবেঃ আহা, যদি আমি এই (কবরবাসী) লোকের জায়গায় হইতাম।

  • ৫৭৪সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدِّيلِيِّ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ بْنِ رِبْعِيٍّ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ ‏:‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُرَّ عَلَيْهِ بِجَنَازَةٍ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُسْتَرِيحُ وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلَى رَحْمَةِ اللَّهِ، وَالْعَبْدُ الْفَاجِرُ يَسْتَرِيحُ مِنْهُ الْعِبَادُ وَالْبِلاَدُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫৪. আবু কাতাদা ইবন রিবরী (রাঃ) বলিতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিয়া একটি জানাযা নিয়া যাওয়া হইতেছিল। তিনি বলিলেনঃ (مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ) অর্থাৎ সে নিজেও শান্তিপ্রাপ্ত এবং অন্য লোকও তাহা হইতে শান্তি লাভ করিয়াছেন। তাহারা (উপস্থিত সাহাবীগণ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুসতারাহ এবং মুসতারাহ মিনহু-এর তাৎপর্য কি ? তিনি বলিলেনঃ মু'মিন বান্দা (মৃত্যুর মাধ্যমে) দুনিয়ার দুঃখ-ক্লেশ হইতে (মুক্তি লাভ করিয়া) আল্লাহর রহমতের দিকে গমন করে এবং শান্তি লাভ করে। আর পাপী বান্দা হইতে আল্লাহর বান্দাগণ শহর, নগর, বৃক্ষরাজি ও জীব-জন্তু সবকিছুই শান্তি লাভ করে অর্থাৎ তাহার কষ্ট হইতে মুক্তি পায়। আবুন নাযর (রহঃ) হইতে বর্ণিত- যখন উসমান ইবনে মযউন (রাঃ) ইন্তিকাল করিলেন এবং তাঁহার জানাযা নিয়া যাওয়া হইল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি (দুনিয়া হইতে) চলিয়া গেলে (এমন অবস্থায় যে) দুনিয়ার সাথে কোন সম্পর্ক গড়িলে না।

  • ৫৭৫যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا مَاتَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ وَمُرَّ بِجَنَازَتِهِ ‏:‏ ‏ "‏ ذَهَبْتَ وَلَمْ تَلَبَّسْ مِنْهَا بِشَىْءٍ ‏"‏ ‏.‏

    এই হাদিসের বাংলা অনুবাদ এখনো পাওয়া যায়নি। এর বদলে আরবি পাঠ দেখানো হয়েছে।

  • ৫৭৬হাসান

    وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ ‏:‏ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَلَبِسَ ثِيَابَهُ ثُمَّ خَرَجَ - قَالَتْ - فَأَمَرْتُ جَارِيَتِي بَرِيرَةَ تَتْبَعُهُ، فَتَبِعَتْهُ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ، فَوَقَفَ فِي أَدْنَاهُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقِفَ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَسَبَقَتْهُ بَرِيرَةُ فَأَخْبَرَتْنِي، فَلَمْ أَذْكُرْ لَهُ شَيْئًا حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِنِّي بُعِثْتُ إِلَى أَهْلِ الْبَقِيعِ لأُصَلِّيَ عَلَيْهِمْ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫৫. আলকামা ইবনে আবি আলকামা (রহঃ) তাহার মাতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠিলেন এবং কাপড় পরিধান করিলেন। অতঃপর প্রস্থান করিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি আমার দাসী বরীরাহ (রাঃ)-কে তাহার অনুসরণ করিতে নির্দেশ দিলাম। সে অনুসরণ করিল। (যাইতে যাইতে) তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাকী পর্যন্ত পৌছিলেন এবং বাকী’তে দাঁড়াইলেন, যতক্ষণ আল্লাহ্ চাহিলেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করিলেন। বরীরাহ তাহার আগেই চলিয়া আসিল এবং আমাকে ঘটনার খবর বলিল, ভোর হওয়া পর্যন্ত আমি আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছুই উল্লেখ করিলাম না। ফজরে এই ঘটনা আমি তাহার নিকট ব্যক্ত করিলাম। তখন তিনি বলিলেন, বাকী'র বাসিন্দাদের নিকট আমি প্রেরিত হইয়াছিলাম তাহাদের জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে।

  • ৫৭৭সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ ‏:‏ أَسْرِعُوا بِجَنَائِزِكُمْ، فَإِنَّمَا هُوَ خَيْرٌ تُقَدِّمُونَهُ إِلَيْهِ أَوْ شَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ৫৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ তোমরা জানাযা (নেওয়ার ব্যাপারে) খুব তাড়াতাড়ি করিও। কারণ (সেই জানাযা) হয়তো ভাল লোক যাহাকে তাহারা আল্লাহর নিকট পেশ করিতেছে অথবা মন্দ লোক যাহাকে তোমরা নিজেদের ঘাড় হইতে খালাশ করিতেছ।

মুয়াত্তা মালিক – খণ্ড ১৬ (পৃষ্ঠা ২) | উল্কা ইসলাম