মূল অংশে যান

মুয়াত্তা মালিক – খণ্ড ২০

২৫১টি হাদিস · পৃষ্ঠা ৫

  • ৯০৫সহীহ

    وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الصَّلاَةَ الرُّبَاعِيَّةَ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ صَلاَّهَا بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ صَلاَّهَا بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَنَّ عُثْمَانَ صَلاَّهَا بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ شَطْرَ إِمَارَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا بَعْدُ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২০৪. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দুই রাকাআত কসর নামায আদায় করিয়াছিলেন। আবু বকর (রাঃ) এবং উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাঁহাদের আমলে দুই রাকাআত করিয়া পড়িয়াছিলেন। এমন কি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-ও তাহার খিলাফতের কিছুকাল দুই রাকাআত করিয়া পড়িয়াছেন, কিন্তু পরে তিনি চার রাকাআত করিয়া পড়িতে শুরু করেন।

  • ৯০৬সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، ‏.‏ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ يَا أَهْلَ مَكَّةَ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ فَإِنَّا قَوْمٌ سَفْرٌ ‏.‏ ثُمَّ صَلَّى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَكْعَتَيْنِ بِمِنًى وَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّهُ قَالَ لَهُمْ شَيْئًا ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২০৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যখন মক্কায় আসেন তখন দুই রাকাআত নামায আদায় করিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ হে মক্কাবাসিগণ, তোমরা স্ব স্ব নামায পূর্ণ করিয়া নাও। কারণ আমরা মুসাফির (তাই আমাদিগকে কসর পড়িতে হইয়াছে)। পরে তিনি মিনায় গিয়া দুই রাকাআতই আদায় করিলেন। তবে সেখানেও তিনি নামাযের পর কিছু বলিয়াছিলেন বলিয়া আমরা সংবাদ পাই নাই।

  • ৯০৭সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، صَلَّى لِلنَّاسِ بِمَكَّةَ رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ يَا أَهْلَ مَكَّةَ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ فَإِنَّا قَوْمٌ سَفْرٌ ‏.‏ ثُمَّ صَلَّى عُمَرُ رَكْعَتَيْنِ بِمِنًى وَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّهُ قَالَ لَهُمْ شَيْئًا ‏.‏ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ أَهْلِ مَكَّةَ كَيْفَ صَلاَتُهُمْ بِعَرَفَةَ أَرَكْعَتَانِ أَمْ أَرْبَعٌ وَكَيْفَ بِأَمِيرِ الْحَاجِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ أَيُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ بِعَرَفَةَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَوْ رَكْعَتَيْنِ وَكَيْفَ صَلاَةُ أَهْلِ مَكَّةَ فِي إِقَامَتِهِمْ فَقَالَ مَالِكٌ يُصَلِّي أَهْلُ مَكَّةَ بِعَرَفَةَ وَمِنًى مَا أَقَامُوا بِهِمَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ يَقْصُرُونَ الصَّلاَةَ حَتَّى يَرْجِعُوا إِلَى مَكَّةَ ‏.‏ قَالَ وَأَمِيرُ الْحَاجِّ أَيْضًا إِذَا كَانَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَصَرَ الصَّلاَةَ بِعَرَفَةَ وَأَيَّامَ مِنًى وَإِنْ كَانَ أَحَدٌ سَاكِنًا بِمِنًى مُقِيمًا بِهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يُتِمُّ الصَّلاَةَ بِمِنًى وَإِنْ كَانَ أَحَدٌ سَاكِنًا بِعَرَفَةَ مُقِيمًا بِهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يُتِمُّ الصَّلاَةَ بِهَا أَيْضًا ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২০৬. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, মক্কায় উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) দুই রাকাআত নামায পড়াইয়া বলিয়াছিলেনঃ হে মক্কাবাসিগণ! আমরা মুসাফির! তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করিয়া নাও। পরে মিনায়ও তিনি দুই রাকাআত নামায পড়েন। কিন্তু সেখানেও কিছু বলিয়াছিলেন বলিয়া আমরা সংবাদ পাই নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ মক্কাবাসিগণ আরাফাতের ময়দানে চার রাকাআত পড়িবে, না দুই রাকাআত পড়িবে? অনুরূপভাবে আমীরে-হজ্জ যদি মক্কাবাসী হন তবে তিনি এই ব্যাপারে কি করিবেন? মক্কাবাসিগণ মিনায় থাকাকালে কসর (দুই রাক’আত) পড়িবে কিনা ? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ মক্কাবাসিগণ যতক্ষণ মিনা ও আরাফাতে অবস্থান করিবে মক্কায় প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত কসরই পড়িবে। আমীরে-হজ্জও যদি মক্কাবাসী হন তিনিও কসর পড়িবেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মিনা এবং আরাফাতের বাসিন্দাগণ কসর পড়িবেন না, পূর্ণ নামায পড়িবেন।

  • ৯০৮যঈফ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَرَجَ الْغَدَ مِنْ يَوْمِ النَّحْرِ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ شَيْئًا فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ ثُمَّ خَرَجَ الثَّانِيَةَ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ بَعْدَ ارْتِفَاعِ النَّهَارِ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ ثُمَّ خَرَجَ الثَّالِثَةَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ حَتَّى يَتَّصِلَ التَّكْبِيرُ وَيَبْلُغَ الْبَيْتَ فَيُعْلَمَ أَنَّ عُمَرَ قَدْ خَرَجَ يَرْمِي ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ التَّكْبِيرَ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ دُبُرَ الصَّلَوَاتِ وَأَوَّلُ ذَلِكَ تَكْبِيرُ الإِمَامِ وَالنَّاسُ مَعَهُ دُبُرَ صَلاَةِ الظُّهْرِ مِنْ يَوْمِ النَّحْرِ وَآخِرُ ذَلِكَ تَكْبِيرُ الإِمَامِ وَالنَّاسُ مَعَهُ دُبُرَ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ ثُمَّ يَقْطَعُ التَّكْبِيرَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَالتَّكْبِيرُ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ عَلَى الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ مَنْ كَانَ فِي جَمَاعَةٍ أَوْ وَحْدَهُ بِمِنًى أَوْ بِالآفَاقِ كُلِّهَا وَاجِبٌ وَإِنَّمَا يَأْتَمُّ النَّاسُ فِي ذَلِكَ بِإِمَامِ الْحَاجِّ وَبِالنَّاسِ بِمِنًى لأَنَّهُمْ إِذَا رَجَعُوا وَانْقَضَى الإِحْرَامُ ائْتَمُّوا بِهِمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَهُمْ فِي الْحِلِّ فَأَمَّا مَنْ لَمْ يَكُنْ حَاجًّا فَإِنَّهُ لاَ يَأْتَمُّ بِهِمْ إِلاَّ فِي تَكْبِيرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ الأَيَّامُ الْمَعْدُودَاتُ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২০৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ১০ তারিখ একটু বেলা হইয়া আসিলে তাকবীর পড়া শুরু করেন। তাহার সঙ্গিগণও তাকবীর বলিতে শুরু করেন। পরের দিন তিনি একটু বেলা হইয়া আসিলে তাকবীর পড়া শুরু করেন এবং সঙ্গিগণও তখন পড়া শুরু করেন। তৃতীয় দিন সূর্য হেলিয়া যাওয়ার পর তিনি তাকবীর বলিলেন। সঙ্গিগণও তখন তাকবীর বলিলেন। সমস্বরে তাকবীর বলার এই আওয়ায মক্কা পর্যন্ত গিয়া পৌছায়। অন্যান্য মানুষ তখন বুঝিতে পারে যে, উমর (রাঃ) প্রস্তর নিক্ষেপের (রমীয়ে জামর) জন্য রওয়ানা হইয়া গিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হুকুম হইল, আইয়্যামে তাশরীকের সময় প্রত্যেক নামাযের পর তাকবীর পড়িতে হইবে। ইমাম প্রথমে তাকবীর বলিবেন, মুকতাদিগণ তাহার অনুসরণ করবেন। বিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখের যুহর হইতে তাকবীর বলা শুরু করিবে এবং ১৩ তারিখ ফজরের সময় তাহা শেষ করবে। ইমাম-মুকতাদি সকলেই এই তাকবীর পাঠ করিবে। নারী-পুরুষ সকলের উপরই পাঠ করা ওয়াজিব। জামাতে নামায পড়ুক বা একাকী, মিনায় অবস্থানরত থাকুক বা অন্য কোনখানে, সকল অবস্থায়ই উহা পাঠ করিতে হইবে। ইমামুল-হজ্জ এবং মিনার ময়দানে অবস্থিত হাজীগণের অনুসরণ করিবে অন্যান্য লোক। তাকবীরের বেলায় তাহারা যখন মিনা হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে ও ইহরাম ভঙ্গ করিবে, তখন মুহলিদের (ইহরাম অবস্থায় যাহারা নাই) অনুসরণ করিবে যাহাতে তাহাদেরই মত হয় অর্থাৎ মুহরিম ও মুহিল দুই দলের মধ্যে তাকবীর বলার ব্যাপারে পার্থক্য নাই। আর যাহারা হজ্জ সম্পাদনকারী নহে, তাহারা কেবল আইয়্যামে তাশরীকের বেলায় হাজীদের অনুসরণ করবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুরআনে উল্লিখিত ‘আইয়্যামে মা’দুদাত’ হইল আইয়্যামে তাশরীক।

  • ৯০৯সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَاخَ بِالْبَطْحَاءِ الَّتِي بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَصَلَّى بِهَا ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২০৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলায়ফা ময়দানের প্রস্তুরাকীর্ণ স্থানে স্বীয় উট বসাইয়া নামায পড়িয়ছিলেন। নাফি’ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তদ্রুপ করিতেন।মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জ সমাধা করিয়া মদীনা ফেরার পথে ‘মাআররাস’ নামক স্থানে প্রত্যেকে যেন নামায পড়ে। আর নামাযের ওয়াক্ত না হইলে ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত যেন অপেক্ষা করে এবং যত রাকাআত পড়া সহজ তাহা যেন পড়িয়া নেয়। কারণ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে শেষরাতে অবস্থান করিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও সেখানে স্বীয় উট বসাইতেন এবং অবস্থান করিতেন।

  • ৯১০সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُحَصَّبِ ثُمَّ يَدْخُلُ مَكَّةَ مِنَ اللَّيْلِ فَيَطُوفُ بِالْبَيْتِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১০. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যুহর, আসর, মাগরিব এবং ইশার নামায মুহাসসাব নামক স্থানে পড়িতেন। অতঃপর রাত্রে মক্কায় গিয়া বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিতেন।

  • ৯১১যঈফ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ قَالَ زَعَمُوا أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَبْعَثُ رِجَالاً يُدْخِلُونَ النَّاسَ مِنْ وَرَاءِ الْعَقَبَةِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১১. মালিক (রহঃ) নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ লোকেরা আমার নিকট বলিয়াছেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জামরা-এ-আকাবা বা প্রস্তর নিক্ষেপের স্থানের পশ্চাৎ হইতেই লোকদিগকে মিনার দিকে ফিরাইয়া দেওয়ার জন্য কিছুসংখ্যক লোক নিযুক্ত করিয়া রাখিতেন।

  • ৯১২সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ لاَ يَبِيتَنَّ أَحَدٌ مِنَ الْحَاجِّ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ وَرَاءِ الْعَقَبَةِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ মিনার রাত্রিসমূহে কেউ যেন জামরা-এ-আকাবার পিছনে অবস্থান না করে।

  • ৯১৩সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ فِي الْبَيْتُوتَةِ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى لاَ يَبِيتَنَّ أَحَدٌ إِلاَّ بِمِنًى ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ মিনায় অবস্থানের রাত্রিসমূহে কেউ যেন মিনা ব্যতীত অন্যত্র রাত্রি যাপন না করে।

  • ৯১৪যঈফ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَقِفُ عِنْدَ الْجَمْرَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ وُقُوفًا طَوِيلاً حَتَّى يَمَلَّ الْقَائِمُ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৪. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন, জামরা-ই-উলার (প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপের স্থান) ও জামরা-ই-বুসতার (মধ্যবর্তী কঙ্কর নিক্ষেপের স্থান) নিকট উমর (রাঃ) (দু'আর জন্য) এতক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিতেন যে, দণ্ডায়মান অন্য লোকজন বিরক্ত হইয়া যাইত।

  • ৯১৫সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقِفُ عِنْدَ الْجَمْرَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ وُقُوفًا طَوِيلاً يُكَبِّرُ اللَّهَ وَيُسَبِّحُهُ وَيَحْمَدُهُ وَيَدْعُو اللَّهَ وَلاَ يَقِفُ عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৫. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) দীর্ঘক্ষণ জামরা-ই-উলা এবং জামরা-ই-বুসতার নিকট দাঁড়াইয়া থাকিতেন। তাকবীর-এ-তাশরীক ও হামদ পড়িতেন এবং দু'আ করিতে থাকিতেন। জামরা-ই-আকাবা শেষ কঙ্কর নিক্ষেপের নিকট তিনি দাঁড়াইতেন না।

  • ৯১৬সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُكَبِّرُ عِنْدَ رَمْىِ الْجَمْرَةِ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ ‏.‏ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُ الْحَصَى الَّتِي يُرْمَى بِهَا الْجِمَارُ مِثْلُ حَصَى الْخَذْفِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَأَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ قَلِيلاً أَعْجَبُ إِلَىَّ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন কোন আহলে-ইলমের নিকট তিনি শুনিয়াছেন যে, কঙ্কর এত ছোট হওয়া উচিত যাহাতে দুই আঙুল দ্বারা নিক্ষেপ করা যায়। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে উহা হইতে কঙ্কর সামান্য বড় হওয়া উচিত। নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ ১২ তারিখের সূর্যস্ত পর্যন্ত যে ব্যক্তি মিনায় অবস্থান করিবে ১৩ তারিখে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত সে যেন ফিরিয়া না যায়।

  • ৯১৭সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ مَنْ غَرَبَتْ لَهُ الشَّمْسُ مِنْ أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَهُوَ بِمِنًى فَلاَ يَنْفِرَنَّ حَتَّى يَرْمِيَ الْجِمَارَ مِنَ الْغَدِ ‏.‏

    এই হাদিসের বাংলা অনুবাদ এখনো পাওয়া যায়নি। এর বদলে আরবি পাঠ দেখানো হয়েছে।

  • ৯১৮সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّاسَ، كَانُوا إِذَا رَمَوُا الْجِمَارَ مَشَوْا ذَاهِبِينَ وَرَاجِعِينَ وَأَوَّلُ مَنْ رَكِبَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৮. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য সাধারণত পায়ে হাটিয়া লোকজন আসা-যাওয়া করিত। সর্বপ্রথম মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ) আরোহী অবস্থায় নিক্ষেপ করেন।

  • ৯১৯সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ مِنْ أَيْنَ كَانَ الْقَاسِمُ يَرْمِي جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَقَالَ مِنْ حَيْثُ تَيَسَّرَ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِكٌ هَلْ يُرْمَى عَنِ الصَّبِيِّ وَالْمَرِيضِ فَقَالَ نَعَمْ وَيَتَحَرَّى الْمَرِيضُ حِينَ يُرْمَى عَنْهُ فَيُكَبِّرُ وَهُوَ فِي مَنْزِلِهِ وَيُهَرِيقُ دَمًا فَإِنْ صَحَّ الْمَرِيضُ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ رَمَى الَّذِي رُمِيَ عَنْهُ وَأَهْدَى وُجُوبًا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لاَ أَرَى عَلَى الَّذِي يَرْمِي الْجِمَارَ أَوْ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَهُوَ غَيْرُ مُتَوَضِّئٍ إِعَادَةً وَلَكِنْ لاَ يَتَعَمَّدُ ذَلِكَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২১৯. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ)-এর নিকট মালিক (রহঃ) জিজ্ঞাসা করিয়াদিলেনঃ কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) কোথা হইতে জামরা-ই-আকাবার কঙ্কর নিক্ষেপ করিতেন। তিনি বলিলেনঃ যে স্থান হইতে সুবিধা এবং সহজ হইত সেই স্থান হইতেই তিনি উক্ত সময় কঙ্কর নিক্ষেপ করিতেন। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ অসুস্থ ও শিশুদের তরফ হইতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা যায় কিনা? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইহা জায়েয। তবে অসুস্থ ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় অনুমান করিয়া স্বীয় স্থানে থাকিয়াই ‘আল্লাহু আকবার’ বলিবে এবং একটি কুরবানী করিবে। আইয়্যামে তাশরীকের মধ্যে যদি সুস্থ হইয়া পড়ে তবে নিজে কঙ্কর নিক্ষেপ করিবে এবং একটি কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ওযু ব্যতীত কঙ্কর নিক্ষেপ করিলে বা সায়ী করিলে উহা পুনরায় আদায় করিতে হইবে না বটে কিন্তু জানিয়া-শুনিয়া এইরূপ করা উচিত নহে।

  • ৯২০সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ لاَ تُرْمَى الْجِمَارُ فِي الأَيَّامِ الثَّلاَثَةِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২০. নাফি (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ তিন দিনের প্রত্যেক দিনই সূর্য হেলিয়া পড়ার পর কঙ্কর নিক্ষেপ করা উচিত।

  • ৯২১সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا الْبَدَّاحِ بْنَ عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْخَصَ لِرِعَاءِ الإِبِلِ فِي الْبَيْتُوتَةِ خَارِجِينَ عَنْ مِنًى يَرْمُونَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ يَرْمُونَ الْغَدَ وَمِنْ بَعْدِ الْغَدِ لِيَوْمَيْنِ ثُمَّ يَرْمُونَ يَوْمَ النَّفْرِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২১. আবুল বাদ্‌দা ইবন আসিম ইবন আদী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাখালগণকে মিনা ব্যতীত অন্য স্থানেও রাত্রি যাপন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। দশ তারিখ এবং উহার পরদিন ও উহার পরবর্তী দিন (১১ ও ১২ তারিখ) সে রমিয়ে জমর (কঙ্কর নিক্ষেপ) করিবে। চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৩ তারিখও যদি সে সেখানে অবস্থান করে তবে কঙ্কর নিক্ষেপ করিবে।

  • ৯২২সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَذْكُرُ، أَنَّهُ أُرْخِصَ لِلرِّعَاءِ أَنْ يَرْمُوا، بِاللَّيْلِ يَقُولُ فِي الزَّمَانِ الأَوَّلِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ تَفْسِيرُ الْحَدِيثِ الَّذِي أَرْخَصَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرِعَاءِ الإِبِلِ فِي تَأْخِيرِ رَمْىِ الْجِمَارِ فِيمَا نُرَى - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - أَنَّهُمْ يَرْمُونَ يَوْمَ النَّحْرِ فَإِذَا مَضَى الْيَوْمُ الَّذِي يَلِي يَوْمَ النَّحْرِ رَمَوْا مِنَ الْغَدِ وَذَلِكَ يَوْمُ النَّفْرِ الأَوَّلِ فَيَرْمُونَ لِلْيَوْمِ الَّذِي مَضَى ثُمَّ يَرْمُونَ لِيَوْمِهِمْ ذَلِكَ لأَنَّهُ لاَ يَقْضِي أَحَدٌ شَيْئًا حَتَّى يَجِبَ عَلَيْهِ فَإِذَا وَجَبَ عَلَيْهِ وَمَضَى كَانَ الْقَضَاءُ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنْ بَدَا لَهُمُ النَّفْرُ فَقَدْ فَرَغُوا وَإِنْ أَقَامُوا إِلَى الْغَدِ رَمَوْا مَعَ النَّاسِ يَوْمَ النَّفْرِ الآخِرِ وَنَفَرُوا ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) আতা ইবন আবি রাবাহ (রহঃ)-কে উল্লেখ করিতে শুনিয়াছেন- উটের রাখালদিগকে কঙ্কর নিক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হইয়াছে। আতা ইবন রাবাহ বলেনঃ এই অনুমতি প্রথম যুগ হইতে প্রচলিত ছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবুল বাদ ইবন আসিম ইবন আলী বর্ণিত উপরিউক্ত হাদীসটির মর্মার্থ হইল, সে দশ তারিখে রমী করার পর এগার তারিখ অতিবাহিত হইয়া গেলে বার তারিখে আসিয়া এগার এবং বার উভয় তারিখের রমী করবে। কারণ ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে কোন বস্তুর কাযা হয় না; যখন তাহার উপর ওয়াজিব হইল এবং সেইদিন অতিবাহিত হইল তখন সেইদিনের রমী কাযা করিতে হইবে।

  • ৯২৩হাসান

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ ابْنَةَ أَخٍ، لِصَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ نُفِسَتْ بِالْمُزْدَلِفَةِ فَتَخَلَّفَتْ هِيَ وَصَفِيَّةُ حَتَّى أَتَتَا مِنًى بَعْدَ أَنْ غَرَبَتِ الشَّمْسُ مِنْ يَوْمِ النَّحْرِ فَأَمَرَهُمَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَنْ تَرْمِيَا الْجَمْرَةَ حِينَ أَتَتَا وَلَمْ يَرَ عَلَيْهِمَا شَيْئًا ‏.‏ قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِكٌ عَمَّنْ نَسِيَ جَمْرَةً مِنَ الْجِمَارِ فِي بَعْضِ أَيَّامِ مِنًى حَتَّى يُمْسِيَ قَالَ لِيَرْمِ أَىَّ سَاعَةٍ ذَكَرَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ كَمَا يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِذَا نَسِيَهَا ثُمَّ ذَكَرَهَا لَيْلاً أَوْ نَهَارًا فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ بَعْدَ مَا صَدَرَ وَهُوَ بِمَكَّةَ أَوْ بَعْدَ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَعَلَيْهِ الْهَدْىُ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৩. আবু বকর ইবন নাফি' (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- সফিয়া বিনত আবি উবায়দের ভ্রাতৃকন্যার মুযদালিফায় নিফাস শুরু হয়। শেষে তিনি এবং তাহার ভ্রাতৃকন্যা সেখানেই থাকিয়া যান। দশ তারিখ যখন তাহারা মিনায় পৌছিলেন তখন সূর্য উঠিয়া গিয়াছিল। মিনায় পৌছার পর আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উভয়কে কঙ্কর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। তবে তাহাদের উপর কোন বদলার হুকুম দেন নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ কেউ যদি মিনার দিবসগুলির কোন তারিখের রমী করিতে তুলিয়া যায় আর এইদিকে সূর্যও অস্তমিত হইয়া যায় তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ রাতে বা দিনে যখনই স্মরণ হইবে রমী করিয়া নিবে। নামাযের কথা ভুলিয়া গেলে যেমন রাত্রে বা দিনে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়িয়া নিতে হয়, এখানেও তাহাই করিবে। তবে মিনা হইতে চলিয়া যাওয়ার পর যদি স্মরণ হয় তবে তাহার উপর কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব হইবে।

  • ৯২৪সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَطَبَ النَّاسَ بِعَرَفَةَ وَعَلَّمَهُمْ أَمْرَ الْحَجِّ وَقَالَ لَهُمْ فِيمَا قَالَ إِذَا جِئْتُمْ مِنًى فَمَنْ رَمَى الْجَمْرَةَ فَقَدْ حَلَّ لَهُ مَا حَرُمَ عَلَى الْحَاجِّ إِلاَّ النِّسَاءَ وَالطِّيبَ لاَ يَمَسَّ أَحَدٌ نِسَاءً وَلاَ طِيبًا حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আরাফাতের ময়দানে সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। হজ্জের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে তাহাদিগকে শিক্ষা দেন। অন্যান্য কথার মধ্যে তিনি ইহাও বলেন যে, মিনা আগমন এবং কঙ্কর নিক্ষেপের পর স্ত্রীসহবাস এবং সুগন্ধি দ্রব্য ব্যতীত তোমাদের জন্য সবকিছুই হালাল হইয়া যাইবে। বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ (তাওয়াফে যিয়ারত বা ইফাযা) না করা পর্যন্ত তোমাদের কেউ যেন সুগন্ধি দ্রব্য ও স্ত্রী স্পর্শ না করে।

  • ৯২৫সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ مَنْ رَمَى الْجَمْرَةَ ثُمَّ حَلَقَ أَوْ قَصَّرَ وَنَحَرَ هَدْيًا - إِنْ كَانَ مَعَهُ - فَقَدْ حَلَّ لَهُ مَا حَرُمَ عَلَيْهِ إِلاَّ النِّسَاءَ وَالطِّيبَ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা কামান বা ছাটান এবং কুরবানী ওয়াজিব থাকিলে উহা আদায় করিয়াছেন, তাহার জন্য সুগন্ধি দ্রব্য এবং স্ত্রীসম্ভোগ ব্যতীত আর সকল কিছুই হালাল হইয়া গিয়াছে। বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর তাহার জন্য এ দুইটিও হালাল হইয়া যাইবে।

  • ৯২৬যঈফ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ ‏"‏ هَذَا مَكَانُ عُمْرَتِكِ ‏"‏ ‏.‏ فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا مِنْهَا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَانُوا أَهَلُّوا بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا ‏.‏ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِمِثْلِ ذَلِكَ ‏

    রেওয়ায়ত ২২৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত যাত্রা করি। আমরা উমরার ইহরাম বাধিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কুরবানীর পশু যাহার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়টিরই ইহরাম বাঁধিয়া নেয় এবং কাজ সমাধা না করা পর্যন্ত যেন ইহরাম না খোলে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মক্কায় যখন প্রবেশ করি তখন আমি ঋতুমতী হইয়া পড়ি। ফলে আমি তাওয়াফ এবং সায়ী করিতে পারলাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরয করলে তিনি বলিলেন, বিনুনি খুলিয়া আঁচড়াইয়া নাও আর উমরা পরিত্যাগ করিয়া হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নাও। আমি তাহাই করিলাম। আমার হজ্জ আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সহিত আমাকে তানয়ীম প্রেরণ করেন। তখন সেই স্থান হইতে আমি উমরা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ পূর্বে পরিত্যক্ত উমরার বদল হইল তোমার এই উমরা। যাহারা কেবল উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা তাওয়াফ ও সায়ী করার পর হালাল হইয়া যায় এবং মিনা হইতে ফিরিয়া আসিয়া তাহারা হজ্জের জন্য দ্বিতীয় তাওয়াফ আদায় করবে। আর যাহারা কেবল হজ্জের বা হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা শুধু একবারই তাওয়াফ আদায় করিবে। উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন।

  • ৯২৮সহীহ

    حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ قَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ، فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى تَطْهُرِي ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ঋতুমতী অবস্থায় আমি মক্কায় আসিয়াছিলাম। ফলে আমি তাওয়াফ ও সায়ী করি নাই। এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করিলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ একজন হাজী যে সমস্ত কাজ করে তুমি তাহাই করিয়া যাও। তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ ও সায়ী স্থগিত রাখ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাঁধিয়া কোন মহিলা মক্কায় আসিলে আর হজ্জের সময় তাহার ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার দরুন সে যদি তাওয়াফ করিতে না পারে, পাক হইতে হইতে হজ্জের সময় শেষ হইয়া যাওয়ার আশঙ্কা হইলে, সে হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নিবে এবং একটা কুরবানী করিবে। কিরান হজ্জকারীর মত তাহাকেও একবার তাওয়াফ করিলেই হইবে। তাওয়াফ করিয়া দুই রাকাআত তাওয়াফের নামায আদায় করার পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে হজ্জের অন্যান্য আহকাম, যথা সায়ী, আরাফাতে মুযদালিফায় অবস্থান এবং প্রস্তর নিক্ষেপ এই অবস্থায়ই চালাইয়া যাইতে পারিবে। তবে হায়য হইতে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারত করিতে পারিবে না।

  • ৯২৯সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ، حَاضَتْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَحَابِسَتُنَا هِيَ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ فَلاَ إِذًا ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৮. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, (হজ্জের সময়) সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতুস্রাব আরম্ভ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ইহা ব্যক্ত করিলে তিনি বলিলেনঃ সফিয়া যেন আমাদেরকে এইখানেই আটকাইয়া রাখিবে। তখন তাহাকে বলা হইল, ইনি তাওয়াফে যিয়ারত (ইফাযা) আদায় করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না।

  • ৯৩০সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ قَدْ حَاضَتْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَعَلَّهَا تَحْبِسُنَا أَلَمْ تَكُنْ طَافَتْ مَعَكُنَّ بِالْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَ بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَاخْرُجْنَ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২২৯. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সফিয়্যারতো ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। তিনি বলিলেনঃ মনে হয় সে আমাদের আটকাইয়া রাখিবে। সে কি তোমাদের সহিত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে নাই? মহিলাগণ বলিলেনঃ হ্যাঁ, করিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর কি, তাহা হইলে এখন চল।

  • ৯৩১সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الرِّجَالِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ‏.‏ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، كَانَتْ إِذَا حَجَّتْ وَمَعَهَا نِسَاءٌ تَخَافُ أَنْ يَحِضْنَ قَدَّمَتْهُنَّ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَفَضْنَ فَإِنْ حِضْنَ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ تَنْتَظِرْهُنَّ فَتَنْفِرُ بِهِنَّ - وَهُنَّ حُيَّضٌ - إِذَا كُنَّ قَدْ أَفَضْنَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩০. আমরাহ বিনত আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেন, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) অন্য মহিলাদেরকে নিয়া হজ্জ করিতেন এবং যদি তাহদের কাহারও ঋতুস্রাবের আশঙ্কা দেখা দিত তবে দশ তারিখেই তাহাকে তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করিয়া আসার জন্য পাঠাইয়া দিতেন। তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া নেওয়ার পর কাহারও ঋতুস্রাব হইলে তাহার পাক হওয়ার আর অপেক্ষা করিতেন না, গন্তব্যস্থলে রওয়ানা হইয়া পড়িতেন।

  • ৯৩২সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ فَقِيلَ لَهُ قَدْ حَاضَتْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَعَلَّهَا حَابِسَتُنَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ طَافَتْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَلاَ إِذًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ قَالَ هِشَامٌ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ ‏.‏ وَنَحْنُ نَذْكُرُ ذَلِكَ فَلِمَ يُقَدِّمُ النَّاسُ نِسَاءَهُمْ إِنْ كَانَ ذَلِكَ لاَ يَنْفَعُهُنَّ وَلَوْ كَانَ الَّذِي يَقُولُونَ لأَصْبَحَ بِمِنًى أَكْثَرُ مِنْ سِتَّةِ آلاَفِ امْرَأَةٍ حَائِضٍ كُلُّهُنَّ قَدْ أَفَاضَتْ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩১. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মু'মিনীন সফিয়া (রাঃ)-এর কথা জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিলেনঃ তাহার ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হয়তো সে আমাদেরকে আটকাইয়া রাখিবে। অন্যরা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তাওয়াফ করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না। হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা উপরিউক্ত বিষয় আলোচনা করিয়াছিলাম। তখন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মহিলাগণকে যদি পূর্বে তাওয়াফের জন্য পাঠাইয়া দেওয়া উপকারী না হয়, তবে মানুষ কেন পাঠায়? মানুষের এই ধারণা যদি ঠিক হইত, তবে ছয় হাজারেরও অধিক মহিলাকে ঋতুমতী অবস্থায় তাওয়াফে রুখসতের অপেক্ষায় মিনায় পড়িয়া থাকিতে হইত।

  • ৯৩৩যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ بِنْتَ مِلْحَانَ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَاضَتْ - أَوْ وَلَدَتْ - بَعْدَ مَا أَفَاضَتْ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَذِنَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَتْ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩২. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তাহাকে আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) খবর দিয়াছেনঃ উম্মে সুলায়ম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর তাওয়াফে যিয়ারতে ঋতুস্রাব শুরু হইলে অথবা তাহার সন্তান ভূমিষ্ঠ হইলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চলিয়া যাওয়ার অনুমতি চাহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে চলিয়া যাইতে অনুমতি দিলেন। পরে তিনি চলিয়া গেলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মিনায় অবস্থানকালে কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হইলে তাওয়াফে যিয়ারত না করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করিবে। তাওয়াফে যিয়ারত করার পর যদি কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে তাহার দেশে ফিরিয়া যাইতে পারে। কারণ এমন ঋতুমতী মহিলা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ হইতে অনুমতি প্রদানের রেওয়ায়ত আমাদের নিকট পৌছিয়াছে। তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বেই যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং উহা বন্ধ না হয় তবে ঋতুস্রাবের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত সে অবস্থান করিবে।

  • ৯৩৪সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَضَى فِي الضَّبُعِ بِكَبْشٍ وَفِي الْغَزَالِ بِعَنْزٍ وَفِي الأَرْنَبِ بِعَنَاقٍ وَفِي الْيَرْبُوعِ بِجَفْرَةٍ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৩. আবূয যুবায়র মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হায়েনা হত্যার বেলায় একটি মেষ, হরিণের বেলায় একটি ছাগল এবং খরগোশ হত্যার বেলায় এক বৎসর বয়সের ছাগলছানা, বন্য ইদুর হত্যার বেলায় চার মাস বয়সের ছাগলছানা প্রদানের বিধান দিয়াছেন।

  • ৯৩৫সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْرَيْتُ أَنَا وَصَاحِبٌ، لِي فَرَسَيْنِ نَسْتَبِقُ إِلَى ثُغْرَةِ ثَنِيَّةٍ فَأَصَبْنَا ظَبْيًا وَنَحْنُ مُحْرِمَانِ فَمَاذَا تَرَى فَقَالَ عُمَرُ لِرَجُلٍ إِلَى جَنْبِهِ تَعَالَ حَتَّى أَحْكُمَ أَنَا وَأَنْتَ ‏.‏ قَالَ فَحَكَمَا عَلَيْهِ بِعَنْزٍ فَوَلَّى الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ هَذَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحْكُمَ فِي ظَبْىٍ حَتَّى دَعَا رَجُلاً يَحْكُمُ مَعَهُ ‏.‏ فَسَمِعَ عُمَرُ قَوْلَ الرَّجُلِ فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ هَلْ تَقْرَأُ سُورَةَ الْمَائِدَةِ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَهَلْ تَعْرِفُ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي حَكَمَ مَعِي فَقَالَ لاَ ‏.‏ فَقَالَ لَوْ أَخْبَرْتَنِي أَنَّكَ تَقْرَأُ سُورَةَ الْمَائِدَةِ لأَوْجَعْتُكَ ضَرْبًا ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ ‏{‏يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ‏}‏ وَهَذَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৩. মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমি ও আমার সঙ্গী একটি গিরিবর্তে আমাদের ঘোড়া দৌড়াইয়া ইহরাম অবস্থায় একটি হরিণ শিকার করিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে বলিলেনঃ চলুন, আমরা দুইজনে ইহার একটি ফয়সালা করিয়া দেই। শেষে তাহারা উভয়ে ঐ ব্যক্তির উপর একটা বকরী ফিদয়া প্রদানের বিধান দেন। ঐ ব্যক্তি ফিরিয়া যাইতে যাইতে বলিতেছিলঃ ইনি আমিরুল মু'মিনীন, যিনি অন্যের সহযোগিতা ভিন্ন একটি হরিণের ফয়সালা দিতে পারিলেন না। উমর (রাঃ) তাহার উক্তি শুনিয়া ফেলিলেন। তাহাকে ডাকিয়া বলিলেনঃ তুমি কুরআনুল কারীমের সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ কি? সে বলিলঃ জি, না। তিনি বলিলেনঃ যিনি আমার সঙ্গে ফয়সালা দিয়াছেন তাহাকে চিন? সে বলিলঃ জি, না। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ যদি সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ বলিতে তবে তোমাকে আমি আজ শাস্তি দিতাম। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কিতাবে (সূরা-ই-মায়িদায়) ইরশাদ করিয়াছেনঃ “তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সত্যবাদী ব্যক্তি ফিদয়া সম্পর্কে ফয়সালা করিয়া দিবে। উহা কুরবানীর জন্য হইবে যাহা মক্কায় পৌছিবে।” আর যিনি আমার সহিত ফয়সালা প্রদানে সহযোগিতা করিয়াছেন ইনি হইতেছেন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ)।

  • ৯৩৬সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَانَ يَقُولُ فِي الْبَقَرَةِ مِنَ الْوَحْشِ بَقَرَةٌ وَفِي الشَّاةِ مِنَ الظِّبَاءِ شَاةٌ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৫. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা উরওয়াহ বলিতেনঃ একটি বন্য গাভী হত্যা করিলে একটি গরু এবং হরিণ হত্যা করিলে একটি বকরী ফিদয়া দিতে হইবে।

  • ৯৩৭সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي حَمَامِ مَكَّةَ إِذَا قُتِلَ شَاةٌ ‏.‏ وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُحْرِمُ بِالْحَجِّ أَوِ الْعُمْرَةِ وَفِي بَيْتِهِ فِرَاخٌ مِنْ حَمَامِ مَكَّةَ فَيُغْلَقُ عَلَيْهَا فَتَمُوتُ فَقَالَ أَرَى بِأَنْ يَفْدِيَ ذَلِكَ عَنْ كُلِّ فَرْخٍ بِشَاةٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لَمْ أَزَلْ أَسْمَعُ أَنَّ فِي النَّعَامَةِ إِذَا قَتَلَهَا الْمُحْرِمُ بَدَنَةً ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ أَرَى أَنَّ فِي بَيْضَةِ النَّعَامَةِ عُشْرَ ثَمَنِ الْبَدَنَةِ كَمَا يَكُونُ فِي جَنِينِ الْحُرَّةِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقِيمَةُ الْغُرَّةِ خَمْسُونَ دِينَارًا وَذَلِكَ عُشْرُ دِيَةِ أُمِّهِ وَكُلُّ شَىْءٍ مِنَ النُّسُورِ أَوِ الْعِقْبَانِ أَوِ الْبُزَاةِ أَوِ الرَّخَمِ فَإِنَّهُ صَيْدٌ يُودَى كَمَا يُودَى الصَّيْدُ إِذَا قَتَلَهُ الْمُحْرِمُ وَكُلُّ شَىْءٍ فُدِيَ فَفِي صِغَارِهِ مِثْلُ مَا يَكُونُ فِي كِبَارِهِ وَإِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ مَثَلُ دِيَةِ الْحُرِّ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ فَهُمَا بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ سَوَاءٌ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরামরত ব্যক্তি যদি একটি উটপাখি মারিয়া ফেলে, তবে উহার বদলে একটি উট ফিদয়া দিতে হইবে। ইহাই আমি হামেশা শুনিয়া আসিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উটপাখির ডিম নষ্ট করিলে প্রতিটি ডিমের পরিবর্তে একটি উটের মূল্যের এক-দশমাংশ হিসাবে ফিদয়া দিতে হইবে। যেমন, আযাদ কোন মহিলার গর্ভস্থ সন্তান যদি কেউ মারিয়া ফেলে তবে ইহার কাফফারায় (মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন) একটি দাসী বা দাস আযাদ করিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ পঞ্চাশ দীনার হইতেছে একটি মানুষের পূর্ণাঙ্গ দিয়্যতের (রক্তপণ) এক-দশমাংশ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শকুন, বাজ, ঈগল, রখম (এক প্রকার শকুন জাতীয় প্রাণী) শিকার বলিয়া গণ্য। মুহরিম ব্যক্তি এইগুলি হত্যা করিলেও বদলা আদায় করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রাণী ছোট হউক আর বড় হউক যাহার যে ফিদয়ার বিধান করা হইয়াছে তাহাই আদায় করিতে হইবে। দিয়্যতের মধ্যে যেমন বড়-ছোটর তারতম্য হয় না, এইখানেও কোন তারতম্য করা হইবে না।

  • ৯৩৮যঈফ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي أَصَبْتُ جَرَادَاتٍ بِسَوْطِي وَأَنَا مُحْرِمٌ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَطْعِمْ قَبْضَةً مِنْ طَعَامٍ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৮. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমীরুল মু'মিনীন আমি ইহরাম অবস্থায় লাঠি দ্বারা কয়েকটি পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ মুষ্টি পরিমাণ খাদ্য কাহাকেও দিয়া দাও।

  • ৯৩৯যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَسَأَلَهُ عَنْ جَرَادَاتٍ، قَتَلَهَا وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ عُمَرُ لِكَعْبٍ تَعَالَ حَتَّى نَحْكُمَ ‏.‏ فَقَالَ كَعْبٌ دِرْهَمٌ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لِكَعْبٍ إِنَّكَ لَتَجِدُ الدَّرَاهِمَ لَتَمْرَةٌ خَيْرٌ مِنْ جَرَادَةٍ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৩৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কিছু পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়ছিল। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট সে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কা'ব (রাঃ)-কে ডাকিয়া বললেনঃ চলুন, আমরা উভয়ে মিলিয়া ইহার একটা ফয়সালা করি। কাব (রাঃ) বললেনঃ ইহাতে এক দিরহাম কাফফারা দিতে হইবে উমর (রাঃ) কা’ব (রাঃ)-কে বলিলেনঃ আপনার নিকট অনেক দিরহাম রহিয়াছে (তাই এই ধরনের বিধান দিতে পারিয়াছেন), আমার নিকট একটি পঙ্গপাল হইতে একটা খেজুর অনেক শ্রেয়।

  • ৯৪০সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَالِكٍ الْجَزَرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُحْرِمًا فَآذَاهُ الْقَمْلُ فِي رَأْسِهِ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَحْلِقَ رَأْسَهُ وَقَالَ ‏ "‏ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ مُدَّيْنِ مُدَّيْنِ لِكُلِّ إِنْسَانٍ أَوِ انْسُكْ بِشَاةٍ أَىَّ ذَلِكَ فَعَلْتَ أَجْزَأَ عَنْكَ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪০. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন- তিনি ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত ছিলেন। তাহার মাথায় উকূন তাহাকে কষ্ট দিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাহাকে মাথার চুল কামাইয়া ফেলিতে হুকুম করিয়া বলিলেনঃ ইহার পরিবর্তে তিনদিন রোযা বা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে দুই মুদ পরিমাণ খাদ্য কিংবা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দাও। উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের যেকোন একটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।

  • ৯৪১সহীহ

    حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ أَبِي الْحَجَّاجِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ ‏"‏ لَعَلَّكَ آذَاكَ هَوَامُّكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ احْلِقْ رَأْسَكَ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ أَوِ انْسُكْ بِشَاةٍ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪১. কা’ব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মনে হয় উকুন তাহাকে খুবই কষ্ট দিতেছে? আমি বলিলামঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি তখন বলিলেনঃ চুল কামাইয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও বা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দিও।

  • ৯৪২সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخُرَاسَانِيِّ، أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنِي شَيْخٌ، بِسُوقِ الْبُرَمِ بِالْكُوفَةِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَنْفُخُ تَحْتَ قِدْرٍ لأَصْحَابِي وَقَدِ امْتَلأَ رَأْسِي وَلِحْيَتِي قَمْلاً فَأَخَذَ بِجَبْهَتِي ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ احْلِقْ هَذَا الشَّعَرَ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ ‏"‏ ‏.‏ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِمَ أَنَّهُ لَيْسَ عِنْدِي مَا أَنْسُكُ بِهِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪২. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসিলেন। আমি চুলায় আগুন ধরাইয়া সঙ্গীদের জন্য রান্না-বান্নায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার মাথা ও দাড়ি উকুনে ভরা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পেরেশানী অনুভব করিয়া আমার ললাটে হাত রাখিলেন এবং বলিলেনঃ চুল কাটিয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয় জন মিসকীনকে খাদ্য দিয়া দাও। আর আমার নিকট কুরবানী করার মত কিছু ছিল না, এই কথা তিনি জানিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, অপরাধ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কিছু ফিদয়া দিবে না। কারণ অপরাধ করার পরই শুধু কাফফারা ওয়াজিব হইয়া থাকে। কাফফারার বেলায় কুরবানী বা রোযা বা মিসকীনকে খাদ্য প্রদান, এই তিনটির যেকোন একটি এবং মক্কা বা মক্কার বাহিরে যেকোন শহরে উহা আদায় করার ইখতিয়ার রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম না খোলা পর্যন্ত মুহরিমের জন্য চুল উপড়ান বা কামানো বা ছাটা কিছুই জায়েয নহে। চুলে উকুন ইত্যাদি হইয়া গেলে উহা জায়েয। কিন্তু উহার পরিবর্তে আল্লাহর নির্দেশমত ফিদয়া দিতে হইবে। মুহরিমের জন্য নখ কাটা, উকুন মারা বা মাথার চুল হইতে উকুন বাহির করিয়া মাটিতে ফেলিয়া দেওয়া বা শরীর ও কাপড়ের উকুন বাহির করা জায়েয নহে। এইরূপ করিলে এক মুষ্টি খাদ্য খয়রাত করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি নাকের চুল বা বগলতলা বা নাভীর নিচের লোম চিমটি দ্বারা উপড়ায় অথবা মাথায় যখম হওয়ার দরুন প্রয়োজনের খাতিরে চুল কামায় বা সিঙ্গা লাগাইবার উদ্দেশ্যে গর্দানের চুল কাটে, এইসব জানিয়া করুক বা ভুলবশত করুক, সকল অবস্থায়ই তাহার জন্য ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব। সিঙ্গা লাগানো স্থানের চুল কামানো মুহরিমের জন্য জায়েয নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অজ্ঞতার দরুন যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই মাথার চুল কামাইয়া ফেলে তবে তাহাকে ফিদয়া দিতে হইবে।

  • ৯৪৩সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَنْ نَسِيَ مِنْ نُسُكِهِ شَيْئًا أَوْ تَرَكَهُ فَلْيُهْرِقْ دَمًا ‏.‏ قَالَ أَيُّوبُ لاَ أَدْرِي قَالَ تَرَكَ أَوْ نَسِيَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ هَدْيًا فَلاَ يَكُونُ إِلاَّ بِمَكَّةَ وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ نُسُكًا فَهُوَ يَكُونُ حَيْثُ أَحَبَّ صَاحِبُ النُّسُكِ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৩. সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি কেউ হজ্জে কোন রুকন আদায় করিতে ভুলিয়া যায় বা উহা ছাড়িয়া দেয় তবে তাহাকে কুরবানী দিতে হইবে। আইয়ুব (আইয়ুব ইবন আবি তমীমা সখতিয়ানী) (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে নাই সাঈদ (রহঃ) ভুলিয়া গেলে বলিয়াছেন, না ছাড়িয়া দিলে বলিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত কুরবানী মক্কায় পৌছাইতে হইবে। অন্য কোন ইবাদত হইলে যেকোন স্থানেই তাহা আদায় করা যায়।

  • ৯৪৪সহীহ

    حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلنَّاسِ بِمِنًى وَالنَّاسُ يَسْأَلُونَهُ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَشْعُرْ فَحَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انْحَرْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَشْعُرْ فَنَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ ‏"‏ ارْمِ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَىْءٍ قُدِّمَ وَلاَ أُخِّرَ إِلاَّ قَالَ ‏"‏ افْعَلْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৫. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের (হাজ্জাতুল বিদা) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের খাতিরে মিনায় দাঁড়ান। বিভিন্ন লোক আসিয়া তাঁহার নিকট বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি জানিতাম না, তাই কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামাইয়া ফেলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন কুরবানী করিয়া নাও। কোন অসুবিধা নাই। অন্য এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কঙ্কর নিক্ষেপ করার পূর্বেই কুরবানী দিয়া ফেলিয়ছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন কঙ্কর নিক্ষেপ করিয়া নাও; কোন অসুবিধা হইবে না। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ আগে বা পরে ফেলা সম্পর্কে সেই দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যত প্রশ্ন করা হইয়াছে সকলের বেলায়ই তিনি বলিয়াছেনঃ এখন করিয়া নাও। কোন অসুবিধা হইবে না।

  • ৯৪৫সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْوٍ أَوْ حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنَ الأَرْضِ ثَلاَثَ تَكْبِيرَاتٍ ثُمَّ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিহাদ বা হজ্জ বা উমরা হইতে প্রত্যাবর্তন করিতেন, তখন প্রতিটি চড়াই অতিক্রম করার সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলিয়া নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করিতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ বা মাবূদ নাই, তিনি এক, তাহার কোন শরীক নাই। তাহার সকল সাম্রাজ্য এবং তাঁহারই সকল প্রশংসা এবং তিনি সকল জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদত-গুজার, সিজদা আদায়কারী এবং প্রভুর প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তাহার ওয়াদা পূরণ করিয়াছেন, তাহার বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন এবং একাই তিনি পরাজিত করিয়াছেন সকল শত্রু বাহিনী।

  • ৯৪৬সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِامْرَأَةٍ وَهِيَ فِي مِحَفَّتِهَا فَقِيلَ لَهَا هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَتْ بِضَبْعَىْ صَبِيٍّ كَانَ مَعَهَا فَقَالَتْ أَلِهَذَا حَجٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৭. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব বর্ণনা করেন- হাওদাতে আরোহিণী এক মহিলার নিকট দিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ অতিক্রম করিয়া যাইতেছিলেন। মহিলাটিকে কেউ তখন বলিলঃ ইনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটি তখন স্বীয় শিশু সন্তানটির হাত ধারণ করিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই শিশুটিও হজ্জ আমার সহিত আদায় হইবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, আদায় হইবে। আর ইহার সওয়াব তুমি পাইবে।

  • ৯৪৭যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَا رُئِيَ الشَّيْطَانُ يَوْمًا هُوَ فِيهِ أَصْغَرُ وَلاَ أَدْحَرُ وَلاَ أَحْقَرُ وَلاَ أَغْيَظُ مِنْهُ فِي يَوْمِ عَرَفَةَ وَمَا ذَاكَ إِلاَّ لِمَا رَأَى مِنْ تَنَزُّلِ الرَّحْمَةِ وَتَجَاوُزِ اللَّهِ عَنِ الذُّنُوبِ الْعِظَامِ إِلاَّ مَا أُرِيَ يَوْمَ بَدْرٍ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ وَمَا رَأَى يَوْمَ بَدْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُ قَدْ رَأَى جِبْرِيلَ يَزَعُ الْمَلاَئِكَةَ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৮. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন কারীয (রহঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আরাফাতের দিন হইতে বেশি আর কোনদিন শয়তানকে লাঞ্ছিত, অপমানিত এবং রাগান্বিত হইতে দেখা যায় নাই। কারণ এই দিন সে আল্লাহ তা'আলার অপার রহমত নাযিল হইতে এবং বড় বড় গুনাহসমূহ মাফ হইয়া যাইতে দেখিতে পায়। বদর যুদ্ধের দিনও তাহার ঐ অবস্থা হইতে দেখা গিয়াছিল? কেউ জিজ্ঞাসা করিলঃ বদরের দিন সে কি দেখিয়াছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ঐ দিন সে জিবরীল (আঃ)-কে ফেরেশতা বাহিনীকে কাতারবন্দী করিতে দেখিয়াছিল।

  • ৯৪৮সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَفْضَلُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَأَفْضَلُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৪৯. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন কারীয (রহঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বোত্তম দুআ হইল আরাফাতের দু'আ। আর আরাফাতের সর্বোত্তম দুআ হইল ঐ দুআ যাহা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণ করিয়াছিলেন। দুআটি এইঃ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ) আল্লাহ ব্যতীত কেউ ইলাহ নাই, তিনি এক, তাহার কোন শরীক নাই।

  • ৯৪৯সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اقْتُلُوهُ ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫০. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন- মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন তিনি মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত ছিলেন। মাথা হইতে উহা যখন খুলিয়া রাখিলেন, তখন এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইবন খতল কা'বার গিলাফ ধরিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহাকে হত্যা কর। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেন, ঐদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাধা অবস্থায় ছিলেন না। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।

  • ৯৫০সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَقْبَلَ مِنْ مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِقُدَيْدٍ جَاءَهُ خَبَرٌ مِنَ الْمَدِينَةِ فَرَجَعَ فَدَخَلَ مَكَّةَ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ ‏.‏ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِمِثْلِ ذَلِكَ ‏

    রেওয়ায়ত ২৫১. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মক্কা হইতে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন। কুদায়দ নামক স্থানে পৌছিয়া তিনি মদীনার বিশৃংখলা সম্পর্কে সংবাদ জ্ঞাত হন। শেষে তিনি পুনরায় মক্কা ফিরিয়া যান এবং ইহরাম না করিয়াই মক্কায় প্রবেশ করেন। মালিক (রহঃ) এইরূপ রেওয়ায়ত ইবন শিহাব হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন।

  • ৯৫২যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدِّيلِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ عَدَلَ إِلَىَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا نَازِلٌ، تَحْتَ سَرْحَةٍ بِطَرِيقِ مَكَّةَ فَقَالَ مَا أَنْزَلَكَ تَحْتَ هَذِهِ السَّرْحَةِ فَقُلْتُ أَرَدْتُ ظِلَّهَا ‏.‏ فَقَالَ هَلْ غَيْرُ ذَلِكَ فَقُلْتُ لاَ مَا أَنْزَلَنِي إِلاَّ ذَلِكَ ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا كُنْتَ بَيْنَ الأَخْشَبَيْنِ مِنْ مِنًى - وَنَفَخَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ - فَإِنَّ هُنَاكَ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ السُّرَرُ بِهِ شَجَرَةٌ سُرَّ تَحْتَهَا سَبْعُونَ نَبِيًّا ‏"‏ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫২. মুহাম্মদ ইমরান আনসারী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- মক্কার পথে একটি বড় গাছের নিচে আমি বিশ্রাম নিতেছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তখন আমার নিকট আসিয়া বলিলেনঃ এই গাছটির নিচে আসিয়া কেন নামিয়া পড়িলে? আমি বলিলামঃ একটু ছায়া লাভের জন্য। তিনি বলিলেনঃ আর কোন উদ্দেশ্য নয়তো আমি বললাম না, শুধু ছায়ার জন্যই। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রহঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তুমি মিনায় বড় বড় দুইটি পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে হইবে, এই বলিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বদিকে হস্ত দ্বারা ইশারা করিলেন, তখন (জানিও যে,) ঐ উপত্যকায় যাহাকে সিরার বলা হয়, উহার একটি বড় গাছের নিচে সত্তর জন নবীর (জনের পর) নাড়ী কর্তন করা হইয়াছিল।

  • ৯৫৩যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، مَرَّ بِامْرَأَةٍ مَجْذُومَةٍ وَهِيَ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَقَالَ لَهَا يَا أَمَةَ اللَّهِ لاَ تُؤْذِي النَّاسَ لَوْ جَلَسْتِ فِي بَيْتِكِ ‏.‏ فَجَلَسَتْ فَمَرَّ بِهَا رَجُلٌ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ لَهَا إِنَّ الَّذِي كَانَ قَدْ نَهَاكِ قَدْ مَاتَ فَاخْرُجِي ‏.‏ فَقَالَتْ مَا كُنْتُ لأُطِيعَهُ حَيًّا وَأَعْصِيَهُ مَيِّتًا ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫৩. ইবন আবি মুলায়কা (রহঃ) বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফরত কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত এক মহিলার নিকট দিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যাইতেছিলেন। তখন তিনি তাহাকে বলিলেনঃ হে আল্লাহর দাসী, অন্য মানুষকে কষ্ট দিও না। হায়, তুমি যদি তোমার বাড়িতেই বসিয়া থাকিতে। পরে উক্ত মেয়েলোকটি নিজের বাড়িতেই বসিয়া থাকিত। একদিন একটি লোক তাহাকে বলিলঃ যিনি তোমাকে বাড়ির বাহিরে যাইতে নিষেধ করিয়াছিলেন, তিনি ইনতিকাল করিয়াছেন। এখন তুমি বাহির হইয়া আসিতে পার। মেয়েটি বলিলঃ জীবদ্দশায় তাঁহাকে মানিব, আর মৃত্যুর পর অবাধ্য হইব, আমি এমন স্ত্রীলোক নহি।

  • ৯৫৪যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يَقُولُ مَا بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْبَابِ الْمُلْتَزَمُ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি জ্ঞাত হইয়াছি, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলতেনঃ হাজরে আসওয়াদ এবং কা'বার দরজার মধ্যবর্তী স্থানটি হইল মুলতাযাম।

  • ৯৫৫যঈফ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَذْكُرُ، أَنَّ رَجُلاً، مَرَّ عَلَى أَبِي ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ وَأَنَّ أَبَا ذَرٍّ سَأَلَهُ أَيْنَ تُرِيدُ فَقَالَ أَرَدْتُ الْحَجَّ ‏.‏ فَقَالَ هَلْ نَزَعَكَ غَيْرُهُ فَقَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَأْتَنِفِ الْعَمَلَ ‏.‏ قَالَ الرَّجُلُ فَخَرَجْتُ حَتَّى قَدِمْتُ مَكَّةَ فَمَكَثْتُ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ إِذَا أَنَا بِالنَّاسِ مُنْقَصِفِينَ عَلَى رَجُلٍ فَضَاغَطْتُ عَلَيْهِ النَّاسَ فَإِذَا أَنَا بِالشَّيْخِ الَّذِي وَجَدْتُ بِالرَّبَذَةِ يَعْنِي أَبَا ذَرٍّ قَالَ فَلَمَّا رَآنِي عَرَفَنِي فَقَالَ هُوَ الَّذِي حَدَّثْتُكَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫৫. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বান (রহঃ) বর্ণনা করেন, রবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ)-এর নিকট দিয়া এক ব্যক্তি পথ অতিক্রম করিয়া যাইতেছিলেন। তাহাকে দেখিয়া তিনি বলিলেনঃ কোথায় যাইতেছ? তিনি বলিলেনঃ হজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিয়াছি। তিনি বলিলেনঃ অন্য কোন উদ্দেশ্য তো নাই? তিনি বলিলেনঃ না। আবূ যর (রাঃ) বললেনঃ আচ্ছা যাও, তোমার কাজ তুমি কর। ঐ ব্যক্তি বলেনঃ আমি মক্কায় চলিয়া গেলাম। আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা হইল আমি সেখানে রহিয়া গেলাম। একদিন দেখি এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করিয়া মানুষ খুবই ভিড় করিয়া আছে। ভিড়ের ভিতরে যাইয়া দেখি, রবাযায় যাহার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হইয়াছিল [আবূ যর (রাঃ)] তিনি বসিয়া আছেন। তিনি আমাকে দেখিয়া চিনিয়া ফেলিলেন এবং বলিলেনঃ তুমি সেই ব্যক্তি না, যাহাকে আমি হাদীস বর্ণনা করিয়া শুনাইয়াছিলাম।

  • ৯৫৬সহীহ

    وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ الاِسْتِثْنَاءِ، فِي الْحَجِّ فَقَالَ أَوَيَصْنَعُ ذَلِكَ أَحَدٌ وَأَنْكَرَ ذَلِكَ ‏.‏ سُئِلَ مَالِكٌ هَلْ يَحْتَشُّ الرَّجُلُ لِدَابَّتِهِ مِنَ الْحَرَمِ فَقَالَ لاَ ‏.‏

    রেওয়ায়ত ২৫৬. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, হজ্জের মধ্যে কোন কিছুর শর্ত আরোপ করা কিরূপ? তিনি বলিলেন, এমনও কেউ করে নাকি? এবং তিনি উক্ত বিষয়টির বিপক্ষে মতপ্রকাশ করিলেন। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- স্বীয় পশুর (খাদ্যের) নিমিত্ত হারম শরীফের ঘাস কাটা যাইতে পারে কি? তিনি বলিলেনঃ না।

মুয়াত্তা মালিক – খণ্ড ২০ (পৃষ্ঠা ৫) | উল্কা ইসলাম